কক্সবাজারের উখিয়া থানার ভেতরেই এক অস্বাভাবিক দৃশ্য! সাব-ইন্সপেক্টরের আসনে বসে বহিরাগত দুই ব্যক্তি নিয়মিত মামলা লিখছেন! থানার দ্বিতীয় তলার শেষ প্রান্তের ডান পাশের একটি রুম যেন তাদের স্থায়ী আসন হয়ে গেছে।
স্থানীয়ভাবে তথ্য সুত্রে জানা যায়, তাদের মধ্যে একজন পার্থ বড়ুয়া অপরজন কুমিল্লার কামাল নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, তারা শুধু মামলা লেখাই নয়, অনেক সময় সাধারণ মানুষকে নিজেদের থানার অফিসার পরিচয়ও দেন।
একটি সুত্র বলছে, এই দুইজনের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে থানার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাইরে পাচার হয়। এতে থানার গোপনীয়তা নষ্ট হচ্ছে এবং নানা ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অভিযোগকারীদের মতে, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এভাবে বহিরাগতদের থানার ভেতরে প্রভাব খাটাতে দেওয়া হলে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
থানার অভ্যন্তর থেকেও মিলেছে অস্বস্তিকর চিত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমরা অফিসারগণ বসতে জায়গা পাই না। ওনাদের কারণে আরও সমস্যা তৈরি হয় এবং নিয়মনীতি ছাড়া এভাবে চলছে।
এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, বহিরাগতদের উপস্থিতি শুধু জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে না, পুলিশ সদস্যদের দৈনন্দিন কর্মপরিবেশেও চাপ সৃষ্টি করছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জিয়াউল হক বলেন, সব অফিসারের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। মাঝেমধ্যে টেকনিক্যাল প্রবলেম হলে সরকারিভাবে কিছু বিলম্ব হতে পারে, তবে বাইরের কারও সহযোগিতা নেওয়া হয় না। বাইরের কেউ থানায় বসার সুযোগও পায় না। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, থানার ভেতরে অনিয়ম বা বহিরাগতদের প্রভাব থাকা মানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়া। তারা দ্রুত তদন্ত করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।