কক্সবাজারের উখিয়ায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় বিজিবি একটি মামলা করেছে। উখিয়া থানায় দায়ের করা মামলায় নাম উল্লেখ করে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করে অভিযুক্তরা ও পরিবারের দাবি- তারা প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় তাদের (পলাতক) আসামি করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের বালুখালী বিওপির একটি টহলদল নাফনদীর কাঁকড়া ব্রিজ এলাকার দক্ষিণ পাশে অভিযান চালায়। এ সময় চোরাকারবারিরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে বিজিবি। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
পরদিন বালুখালী ক্যাম্পের হাবিলদার মো. সেলিম রানা বাদী হয়ে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর পাশাপাশি দণ্ডবিধির কয়েকটি ধারা উল্লেখ করে ৭ জনকে আসামি দেখানো হয়।
অভিযুক্তদের পরিবারের দাবি, তারা এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, “আমাদের শত্রুপক্ষের অপতথ্যের কারণে এ মামলায় তাদের নাম এসেছে। প্রকৃত অপরাধীরা যাতে ধরা না পড়ে, সেই উদ্দেশ্যে আমাদেরকে ফাঁসানো হয়েছে।”
এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয়রা এবং মামলার অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, “বিজিবির হাবিলদার সেলিম পূর্বেও বিভিন্ন পরিবারকে মামলার ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে হয়রানি করতেন। সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষকে অহেতুক সন্দেহ করে তার আচরণে আমরা বারবার ভোগান্তির শিকার হয়েছি।”
তাদের আরও দাবি, “এ ধরনের হয়রানি ও হুমকির কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী নিরীহ মানুষদের অযথা হয়রানি না করে প্রকৃত মাদককারবারিদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, বিজিবি হাবিলদার সেলিম বলেন, যাদের মামলা দেওয়া হয়েছে প্রকাশ্যে মাদক কারবারি, এখনো তাদের বাড়িতে গেলে ইয়াবা পাওয়া যাবে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদকের মামলাও আছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, “মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। মামলাটি ডিবির কাছে। তারা তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।”
এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনাই একান্ত জরুরি। নির্দোষ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়েও তারা সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।