ডিসেম্বর ৬, ২০২৫

দৈনিক উখিয়া

ঘুমধুমে অপহৃত উখিয়া’র ডেকোরেশন ব্যবসায়ী ছৈয়দ নুরের মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব দরগারবিল এলাকার আলী আহমেদর ছেলে ডেকোরেশন ব্যবসায়ী ছৈয়দ নুরের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা থেকে। তাকে নির্মমভাবে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

সোমবার (২১ জুলাই ২০২৫) বিকাল আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের হীলটেক পাহাড়ি এলাকার একটি নির্জন স্থানে একটি মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি জাফর ইকবালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক সুরতহাল শেষে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করার প্রক্রিয়া শুরু করে।

নিহত ছৈয়দ নুরের পরিবার অভিযোগ করে জানান, ছৈয়দ নুর একজন সজ্জিত ডেকোরেশন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি গত ১৮ জুলাই ২০২৫, বিকেল আনুমানিক ৫টায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আজু খাইয়া এলাকার উছিউর রহমানের ছেলে মোঃ ইসমাইল এবং অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জন মিলে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

পরিবার অভিযোগ করে, অপহরণের পর ছৈয়দ নুরকে বাইশফাঁড়ি এলাকার গভীর জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তারা পরিবারকে একাধিকবার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করে, না দিলে ‘মৃতদেহ খুঁজে পাবে’ বলে ভয় দেখায়।

এবিষয়ে নিহত ছৈয়দ নুরের স্ত্রী জোবাইদা বেগম বাদী হয়ে গত ১৯ জুলাই -২০২৫ নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছে বলে জানা যায়।

স্থানীয়রা ধারণা করছে, অপহরণকারীরা মূলত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছৈয়দ নুরকে হত্যা করে পাহাড়ি এলাকায় মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি জাফর ইকবাল বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মরদেহের গলায় ফাঁস লাগানোর চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় আমরা হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত করছি।

ছৈয়দ নুরের মৃত্যুর খবরে রাজাপালং ইউনিয়নের দরগারবিল এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

ছৈয়দ নুরকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ। ঘটনায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে এলাকায় আলোচনা। মুক্তিপণ দাবির প্রমাণ হিসেবে মোবাইল কল রেকর্ড ও স্ক্রিনশট তদন্তকারীদের কাছে জমা।এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

ছৈয়দ নুরের এ নির্মম হত্যাকাণ্ড কেবল তার পরিবারের জন্য নয়, উখিয়ার সাধারণ মানুষের জন্যও এক গভীর বেদনার নাম। এ ঘটনায় অপহরণ, মুক্তিপণ এবং পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ড—সবকিছুই সমাজে সন্ত্রাস ও নিরাপত্তাহীনতার চিত্র স্পষ্ট করছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা, যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে