পবিত্র আশুরা উপলক্ষে উখিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ভাবগম্ভীর আলোচনা ও মিলাদুন্নবী (সঃ) মাহফিল। গত ৬ জুলাই, ১০ মহররম (শনিবার), সন্ধ্যা মাগরিব বাদ উখিয়া একরাম মার্কেট চত্বরে আঞ্জুমানে রহমানিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের উদ্যোগে এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে শোকাবহ কারবালার শহীদদের স্মরণে ও ইসলামের মূল শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন আঞ্জুমানে রহমানিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মাওলানা নুরুল হাসান আযাদ যুক্তিবাদী। তিনি বলেন, “কারবালার ঘটনা ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক অধ্যায়, যা আমাদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকার প্রেরণা দেয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার সিনিয়র আরবী প্রভাষক, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ হযরত মাওলানা হাফেজ বেলাল উদ্দিন। তিনি শহীদি কারবালার ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ইমাম হোসাইন (রাঃ) যদি বাতিল শক্তি ইয়াজিদের হাতে বায়াত দিতেন, তবে আজ ইসলামের মূল চেতনা হুমকির মুখে পড়ত। তিনি জীবন দিয়ে ইসলাম রক্ষা করেছেন। শহীদানে কারবালা আমাদের শিখিয়ে গেছেন কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়। তাদের আত্মত্যাগ মুসলমানদের জন্য এক অনন্ত প্রেরণার উৎস।
বিশেষ বক্তা হিসেবে আলোচনা পেশ করেন—পূর্ব টাইপালং জামে মসজিদের খতীব মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিকী, করাইবনি দারুল উলুম আল সলামিয়া নূরানী মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা ইমাম জাফর আলম, সিকদার বিল দারুল উলুম সালমান ফার্সি নূরানী মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা হাফেজ আব্দুস সালাম ইসাপুরী, কুতুপালং নূরে আহম্মদিয়া জামে মসজিদের খতীব মাওলানা মুজিবুল হক, এবং হাফেজ মোঃ ছাদেক। বক্তারা কারবালার শিক্ষা ও মুসলমানদের আত্মিক জাগরণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রেসক্লাব উখিয়ার সাধারণ সম্পাদক শাকুর মাহমুদ চৌধুরী, রাজাপালং ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক আপন কণ্ঠের প্রতিনিধি হেলাল উদ্দিন, জাতীয় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের উখিয়া প্রতিনিধি মোঃ রাশেদ।
মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন, ট্রাস্টের অফিস সেক্রেটারি রহমত উল্লাহ ফকির এবং সদস্য ফজল আহমদ ফকির, ফরিদ আলম, ছৈয়দ আকবর, বখতিয়ার আহমদ, আলী হোসেন ফকির, হামিদুল হক, ওসমান গনি, কামাল উদ্দিন সওদাগর, মোঃ হোসাইন, আব্দুল করিম মতু ফকির, নুরুল ইসলাম ফকির, জসিম উদ্দিন আজমেরী, রফিক উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, আহমদ কবির, আবু বক্কর, আরমান, সাইফুল ইসলাম সহ উখিয়া বাজারের বিভিন্ন ধর্মপ্রাণ ব্যবসায়ী ও তাওহিদী জনতা।
বক্তারা কারবালার শিক্ষাকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রয়োগ করার আহ্বান জানান। আলোচনার পর মিলাদুন্নবী (সঃ) ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
মাহফিল শেষে শোহাদায়ে কারবালা এবং উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও হেদায়েত কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এই মহফিল ধর্মপ্রাণ জনতার মাঝে নতুন করে ইসলামের আত্মত্যাগ ও ত্যাগের মহিমা তুলে ধরে হৃদয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।