ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫

দৈনিক উখিয়া

আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোটিং প্রবণতা: একটি বিশ্লেষণ

বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশে। ধারনা করা হচ্ছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের নিজস্ব মার্কা নিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ করা সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না। তাই তাদের ভোটাররা এবার কোন দলকে ভোট দিবে তাই নিয়ে সবার কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী হয় দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন নাহয় গ্রেফতার হয়েছেন আর কিছু আত্নগোপনে আছেন। ধরা যাক, প্রায় ১ লক্ষ পঞ্চাশ হাজারের মতো( কম বেশি হতে পারে) নেতা-কর্মী পালিয়েছেন এবং প্রায় ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ৬০৭ (কম বেশী হতে পারে) জনের মতো নেতা কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন কিন্তু, এটা নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। আওয়মী লীগের মতে এটা ঠিক কিন্তু, মিডিয়া বলতেছে ১২০০০+-। তবে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকরা যারা সরাসরি রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িত নন তাদের পালানোর বা গ্রেফতারের কোনো কারণ নেই। এখন প্রশ্ন হলো, এই সাধারণ আওয়ামী লীগ সমর্থকরা ভোট কাকে দেবেন?

এক্ষেত্রে তিনটি প্রধান প্রবণতা দেখা যাচ্ছে:
১. যারা বিএনপিকে ভোট দেবেনঃ
💠কারণঃ
🔸 যে আসনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব নেই।
🔸জামাতের চেয়ে বিএনপিকে তারা বেশি নিরাপদ ও মধ্যপন্থী মনে করে।
🔸তারা মনে করে, বিএনপি জিতলে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা নিরাপদে থাকতে পারবেন।
🔶উদাহরণঃ
🔸কোনো আসনে যদি বিএনপির প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতায় থাকেন, তাহলে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তাকে ভোট দিতে পারেন।

২. যারা জামাতকে ভোট দেবেনঃ
💠কারণঃ
🔸যে আসনে জামাত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে সংঘাত কম।
🔸বিএনপির চেয়ে জামাতকে তারা স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী বা সুবিধাজনক মনে করে।
🔸তারা বিশ্বাস করে, জামাতের এমপি নির্বাচিত হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীরা নিরাপদ থাকবেন।
🔶উদাহরণঃ
🔸কোনো আসনে জামাতের প্রার্থী যদি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখেন, তাহলে আওয়ামী লীগের কিছু সমর্থক জামাত কে ভোট দিতে পারেন।

৩. যারা ভোট দেবেন না (ভোট বর্জন করবেন):
💠কারণঃ
🔸তারা আওয়ামী লীগের পরাজয় এখনো মেনে নিতে পারছেন না।
🔸তারা মনে করেন, বিএনপি বা জামাত কেউই তাদের জন্য নিরাপদ নয়।
🔸তারা আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক, তাই অন্য কোনো দলকে ভোট দিতে তারা নারাজ।
🔶উদাহরণঃ
🔸সারাদেশের কিছু কিছু আসনে আওয়ামী লীগের প্রাণপ্রিয় নেতারা যদি গ্রেফতার হওয়ার কারনে বা পালিয়ে যাওয়ার কারনে, তাদের অনেক সমর্থকরা ভোট দান থেকে বিরত থাকতে পারেন।

💠মূল বিষয়ঃ
🔸আওয়ামী লীগের সব ভোট বিএনপি বা জামাত পাবে এ ধারণা ভুল।
🔸বিএনপি-জামাত ছাড়াও অন্যান্য দলও আওয়ামী লীগের কিছু ভোট পেতে পারেন।
🔸সংসদীয় আসনভিত্তিক রাজনৈতিক সমীকরণই নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা কার পক্ষে যাবেন বা ভোট দেবেন কি না।
সুতরাং, একটি সাধারণীকরণ করা সম্ভব নয়, প্রতিটি আসনের নিজস্ব গতিশীলতা ও সমর্থকদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করবে।