চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়, বিচ্ছেদ নয়, নয় বন্ধন ছিন্ন করা—এই আবেগঘন চেতনায় ২২ জুন (রবিবার) কক্সবাজারের রামু উপজেলার ধেছুয়া পালং এলাকায় পালং সিটি কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল কনফিডেন্স লার্নিং একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠান।
বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত করেন শারমিন আক্তার ও শাকিলা আক্তার রিতু। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামু সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর জনাব আব্দুল হক। তিনি তাঁর মূল্যবান বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কখনো হাল ছাড়বে না, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে এগিয়ে যেতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ডা. নসুরুল্লাহ রায়হান, যিনি শিক্ষার্থীদের চরিত্রবান, নৈতিকতা সম্পন্ন ও মাদকমুক্ত জীবনযাপনের পরামর্শ দেন।
এছাড়া ওরালকক্স ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ কেয়ারের পরিচালক জনাব নুরুল আজীম পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।
উল্লেখযোগ্য বক্তব্য রাখেন CEO & YOSD প্রতিষ্ঠাতা জনাব কফিল উদ্দিন, তিনি আইসিটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই যুগ প্রতিযোগিতার যুগ, দক্ষতা অর্জন ছাড়া টিকে থাকা কঠিন।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের রেফারি সাইফুদ্দিন মুন্না বলেন, সবার আগে আমাদের মনুষ্যবোধসম্পন্ন মানুষ হতে হবে। ধেছুয়া পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সুলতান আহমদ বলেন, শুধু শিক্ষা নয়, সুশিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড।
অনুষ্ঠানে পালং টিভির প্রতিষ্ঠাতা ও সাংবাদিক মো. ইয়াকিন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খুঁটিনাটি বিষয়ে সচেতন করে মূল্যবান দিকনির্দেশনা দেন।
কনফিডেন্স লার্নিং একাডেমির পরিচালক ও শিক্ষক মো. ইমরান খান প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৯ সাল থেকে একাডেমি প্রায় তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে বিদায় দিয়েছে এবং ২০২৪ সালের এইচএসসি ব্যাচের অনেকেই ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। ইংরেজি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনে ‘ইংলিশ গার্ডেন’ প্রজেক্টও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিচালক ও শিক্ষক সাইদুর রহমান সাঈদী এবং সহকারী শিক্ষক ছৈয়দুল হক শিক্ষার্থীদের সাফল্য কামনায় আবেগঘন বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া বিদায়ী এবং একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, আমাদের শিক্ষকরা পিতার মতন স্নেহ দিয়ে আমাদের গড়ে তুলেছেন। হয়তো এমন শিক্ষক আর কখনো খুঁজে পাব না।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার বিতরণ এবং চূড়ান্ত মডেল টেস্ট পরীক্ষায় সেরা ফলাফল অর্জনকারীদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
সবশেষে মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ করা হয়।
এই আয়োজন যেন শুধুই একটি বিদায় অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি প্রেরণার বাতিঘর হয়ে শিক্ষার্থীদের মনে গেঁথে রইল চিরদিন।