ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছে এক রোহিঙ্গা যুবক। তার প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয়ে এজেন্ট চক্রের সহায়তায় এসব গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম মোহাম্মদ সুফিয়াত। তিনি কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১, ডি-১২ ব্লকে বসবাস করছেন। তার প্রকৃত পরিচয় অনুযায়ী, তিনি মায়ানমারের নাগরিক এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্য। মৃত রফিক নামে এক রোহিঙ্গা নাগরিক তার পিতা।
সূত্র জানায়, সুফিয়াত নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা পরিচয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট তৈরি করেন। তিনি নিজেকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিন দম্পতির পুত্র হিসেবে উপস্থাপন করে এনআইডি এবং পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। এতে সহযোগিতা করেছে একটি সক্রিয় দালাল চক্র।
এ বিষয়ে লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি আলি হোছন বলেন,
সুফিয়াত নামক যুবককে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। আমরা রোহিঙ্গারা এখানে শুধু আশ্রয় নিয়েছি। আশ্রয় নেওয়ার নামে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমি তার এনআইডি ও পাসপোর্ট দ্রুত বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির মহাসচিব এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন,
রোহিঙ্গারা জাতিগত নিধন থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু কেউ যদি তথ্য গোপন করে বাংলাদেশি নাগরিক সেজে এনআইডি ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করে, তাহলে তা নাগরিকত্ব ও অভিবাসন আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। এটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতিও হুমকি।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের অনিয়ম বন্ধে যথাযথ যাচাই-বাছাই, তথ্যের স্বচ্ছতা এবং জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ইসরাত জাহান, পিপিএম বলেন,
আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে নথিপত্র যাচাই করা হবে। তারপর দেখা হবে কীভাবে এই পাসপোর্ট ক্লিয়ারেন্স পেয়েছে এবং এর সঙ্গে কে বা কারা জড়িত।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানিয়েছে, এনআইডি এবং পাসপোর্ট সংগ্রহে ব্যবহৃত ভুয়া কাগজপত্র, দালাল চক্রের কার্যক্রম, এবং অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়েও তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় শুধু সুফিয়াত নয়, আরও কতজন রোহিঙ্গা একই পদ্ধতিতে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব সুবিধা গ্রহণ করেছে—সেই বিষয়েও শিগগিরই ব্যাপক অনুসন্ধান চালানোর দাবি উঠেছে।