কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যাপালং উচ্চবিদ্যালয়ে ‘আশা’ পরিচালিত পাইলটিং শিক্ষা কর্মসূচির (৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণি) আওতায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অভিভাবক সমাবেশ গত বৃহস্পতিবার ২৯ মে ২০২৫ ইং তারিখে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আশা’ ১৯৭৮ সাল থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারী ক্ষমতায়ন, এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। শুরু থেকেই ভূমিহীন ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী বিশেষত নারীদের স্বনির্ভরতায় ভূমিকা রেখে আসছে সংস্থাটি। বর্তমানে ‘আশা’র ৬৪ লাখ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই নারী, যা তাদের নারীকেন্দ্রিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগের সফলতা প্রমাণ করে।
‘আশা’ শুধু ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়, পাশাপাশি তারা শিক্ষা খাতে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচিও পরিচালনা করছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং শতভাগ পাসের হার নিশ্চিত করে একটি দক্ষ, শিক্ষিত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখছে সংস্থাটি।
এই ধারাবাহিকতায় ‘আশা’ পরিচালিত মরিচ্যা পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদান কেন্দ্রে ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রায় ৯০ জন অভিভাবকের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন আশা শিক্ষা কর্মসূচি কক্সবাজার-পটিয়া জেলার শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদ খাঁন। সভাপতিত্ব করেন মরিচ্যা পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মনিটর মোহাম্মদ আবদুল করিম। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন আশা শিক্ষা কর্মসূচির সুপারভাইজার জাহেদ আলম।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: নজরুল ইসলাম, সহকারী প্রধান শিক্ষক, মরিচ্যা পালং উচ্চ বিদ্যালয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: বিনোদন চন্দ্র দাস, বিএম, ‘আশা’ মরিচ্যা ব্রাঞ্চছৈয়দুল হক আকাশ, সমাজকর্মীমো. ইউছুপ, শিক্ষানুরাগীশাহা আলম (শাহীন), মাঈনুল কবির, জয়নাল আবেদীন, হুজ্জতুল ইসলাম, প্রমুখ অভিভাবক সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘আশা’ শুধু একটি এনজিও নয়, এটি একটি সামাজিক বিপ্লবের নাম, যা শিক্ষাক্ষেত্রেও নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। শিক্ষার্থীদের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য এই ধরনের অভিভাবক সমাবেশ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
সমাবেশে অভিভাবকগণ ‘আশা’র শিক্ষা কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে একটি শিক্ষামূলক মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের শিক্ষার অগ্রগতিতে করণীয় ও চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে মুক্তভাবে আলোচনা করেন।