ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫

দৈনিক উখিয়া

উখিয়া-টেকনাফে ১৩০ মা কচ্ছপের করুণ মৃত্যু: সংকটে সাগরের প্রাণবৈচিত্র্য

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী, উখিয়া থেকে।।জেলেদের জালে আটকিয়ে হাত-পা কেটে হত্যা, ধাক্কা খেয়ে মরছে কার্গো জাহাজে; ১০ বছরে ডিম পাড়ার স্থান কমেছে প্রায় ৩৫%।

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ উপকূলের সমুদ্র সৈকতে গত তিন মাসে উদ্ধার করা হয়েছে ১৩০টি মৃত মা কচ্ছপের মরদেহ। মৃত্যুর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে জেলেদের জালে আটকা পড়ে আহত হওয়া এবং দূরপাল্লার জাহাজ বা কার্গোর সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনা। পরিবেশবিদরা এই ঘটনাকে সামুদ্রিক প্রাণবৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট (নেকম)-এর প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ম্যানেজার আব্দুল কাইয়ুম। তিনি জানান, জেলেদের জালে আটকা পড়লে কচ্ছপগুলো হাত-পা কেটে দেওয়া হয়, এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে কচ্ছপগুলো বড় জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েও মারা যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, মৃত কচ্ছপগুলো সাধারণত সৈকতে ভেসে আসে এবং পরে সেগুলো মাটিচাপা দেওয়া হয়। তবে এভাবে চলতে থাকলে কচ্ছপের প্রজনন চক্রে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

নেকমের গবেষণায় উঠে এসেছে, গত এক দশকে উখিয়া-টেকনাফ উপকূলের ৫২টি ডিম পাড়ার স্থান এখন কমে ৩৪টিতে নেমে এসেছে। পরিবেশবিদদের মতে, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি চিত্র। তারা বলেন, কচ্ছপ শুধুমাত্র একটি প্রজাতি নয়, এটি সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এখনই সমন্বিত সৈকত ব্যবস্থাপনা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং কচ্ছপ সংরক্ষণে সরকারি পরিকল্পনা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য যা করা প্রয়োজন,
.কচ্ছপ সুরক্ষায় নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা
.জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা
. বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ
.স্থানীয় জনগণকে কচ্ছপ রক্ষায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা।
পরিবেশবিদদের মতে, প্রতিটি কচ্ছপের মৃত্যু মানে একটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিলুপ্তি। এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।