শাকুর মাহমুদ চৌধুরী, উখিয়া থেকে।।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের প্রতিযোগিতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একদিকে, বনভূমি রক্ষা করতে বনবিভাগের নানা পদক্ষেপ চললেও, অপরদিকে বনজীবী এবং ভূমিদস্যুরা এসব স্থানে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল, (মঙ্গলবার) কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের উখিয়া রেঞ্জের সদর বিটের কুতুপালং লম্বাশিয়া এলাকায় বনবিভাগের একটি অভিযান চালানো হয়, যেখানে বনভূমি জবরদখল করে নির্মিত পাঁচটি দালান উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে অংশগ্রহণকারী বনবিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ওই এলাকার এক বাসিন্দা, নুরুল আলম, অবৈধভাবে সংরক্ষিত বনভূমিতে পাঁচটি দালান নির্মাণ করে, যা বন আইন বিরোধী ছিল।
বনবিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বনভূমি রক্ষা এবং সুরক্ষিত বনভূমি জবরদখল রোধে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন এবং উখিয়া সদর বিটের লম্বাশিয়া এলাকায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে গিয়ে, নুরুল আলম বনবিভাগের কর্মকর্তাদের বাঁধা প্রদান করেন এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের দিকে তেড়ে যান। তবে, বনবিভাগের অভিযানিক দল তাঁর দখলে থাকা কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়।
উখিয়া রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক, মো. শাহিনুর ইসলাম, এ প্রসঙ্গে বলেন, বনভূমি ও সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল রোধে বনবিভাগ সচেতন এবং সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, এবং আইন অনুযায়ী আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
তিনি আরো জানান, বনভূমি জবরদখলকারী নুরুল আলমের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বনবিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এসব অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, স্থানীয় পরিবেশবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, কক্সবাজারের বনভূমি জবরদখল অব্যাহত থাকলে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটবে এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়বে। তাঁরা সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
