শাকুর মাহমুদ চৌধুরী, উখিয়া থেকে।।
ফিলিস্তিনের গাজা অঞ্চলের নিরস্ত্র মানুষদের ওপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বর্বর হামলার প্রতিবাদে কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার স্টেশন এলাকায় এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বিক্ষোভটি ৭ এপ্রিল, ২০২৫ ইং, সোমবার আছর নামাজের পরপরই শুরু হয়। মিছিলটি উখিয়া স্টেশন জামে মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে কোট বাজারের স্টেশন জামে মসজিদ গেট পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। প্রতিবাদকারীরা ফিলিস্তিনের ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে স্লোগান দেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা, উখিয়া উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষকেরা, ওলামা শায়েখগণ এবং উখিয়া উপজেলা সহ আশেপাশের এলাকার হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা। এসময় অংশগ্রহণকারীরা “ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়াও”, “ইসরায়েলি বর্বরতার প্রতিবাদ জানাই”, “গাজা মুক্তি পাক”, “আল-আকসার পাশে থাকুন”, “ফিলিস্তিনকে স্বাধীনতা দাও” সহ নানা স্লোগান দিয়ে রাস্তায় শ্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বর্বরতার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকার সুরক্ষিত হয়। তাঁরা বলেন, “ফিলিস্তিনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং সেখানকার মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সকল মুসলিম উম্মাহর প্রধান কর্তব্য।” প্রতিবাদকারীরা চেয়েছেন, গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হোক এবং সেখানে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়া হোক।
বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উখিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা বলেন, ফিলিস্তিনের জনগণের উপর আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা অর্জন এখন মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের বিষয়। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর আক্রমণ বন্ধ করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিন।
এছাড়া, উখিয়া উপজেলা বিএনপির স্থানীয় নেতা তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আজকের এই আন্দোলন শুধুমাত্র বাংলাদেশের জনগণের নয়, বরং সারাবিশ্বের সকল শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে একত্রিত হওয়ার একটি পদক্ষেপ। বিশ্ববাসী যদি তাদের নীরবতা ভেঙে ফিলিস্তিনের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ না করে, তবে ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ পরিণতি দেখা দিতে পারে।
এদিকে, বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলটি শেষ করেন এবং সবার মধ্যে একটি একতাবদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দেন। মিছিলটি শেষে, অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে একে অপরকে শান্তিপূর্ণভাবে ঘরে ফিরতে আহ্বান জানান। উখিয়া সদর এলাকার সকল মুসল্লী একত্রিত হয়ে ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি তাদের সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভকারীরা একতাবদ্ধভাবে ঘোষণা করেন যে, তাদের প্রতিবাদ শুধুমাত্র আজকের দিনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা ভবিষ্যতেও ফিলিস্তিনের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবেন। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উত্সাহিত করেন যে, তারা যেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
এভাবে, উখিয়া উপজেলার সাধারণ জনগণ ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষের প্রতি তাদের সংহতি প্রকাশ করে এবং ন্যায়বিচারের জন্য আওয়াজ তোলেন। আজকের এই বিক্ষোভ মিছিল একদম স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, বাংলাদেশের জনগণ শুধু তাদের নিজ দেশেই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী ন্যায় ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সোচ্চার এবং একত্রিত রয়েছে।
ফিলিস্তিনের সংগ্রাম শুধু তাদের নয়, পুরো মুসলিম উম্মাহর সংগ্রাম। তাই তাদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে উখিয়া উপজেলা আজ একত্রিত হয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করেছে এবং সারাবিশ্বের সামনে ফিলিস্তিনের পাশে থাকার সংকল্প দৃঢ় করেছে।