বর্তমান প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল ইস্যু। আন্তর্জাতিক মহলের নানা উদ্যোগের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউনুসও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে; মিয়ানমার বর্তমানে জান্তা সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে এবং সীমান্তবর্তী কিছু অঞ্চল দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী (যাদের স্থানীয়ভাবে ‘মগবাগী’ বলা হয়) দখল করে নিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, যেসব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, তাদের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার, তারা কারা? কিভাবে তাদের নির্বাচন করা হয়েছে? এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা কি স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে প্রস্তুত?
যদি তারা ফিরে যায়, তাহলে কি তারা নিজেদের পুরনো বসতভিটায় ফিরে যেতে পারবে? নাকি জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য কোনো অঞ্চলে বসবাস করতে হবে? আবার, যদি তারা তাদের নিজস্ব ভূমিতে ফেরে, তাহলে সেসব অঞ্চল বর্তমানে দখল করে রাখা বিদ্রোহী গোষ্ঠী কি তা মেনে নেবে? আদৌ কি কোনো চুক্তি হয়েছে বা বিদ্রোহীরা সম্মতি দিয়েছে?
এসব প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। কারণ, আমরা প্রত্যাশা করি একটি স্থায়ী, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন।
তারপরও, আমরা আশাবাদী। আমরা চাই রোহিঙ্গারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাক। আমাদের মাতৃভূমি ফিরে পাক তার হারানো প্রাকৃতিক জৌলুশ। সবুজে ভরে উঠুক দখলকৃত বনভূমি, জীববৈচিত্র্য ফিরে পাক আপন প্রাণ। উখিয়া-টেকনাফের শিক্ষাঙ্গন ফিরে পাক তার আগের সুশৃঙ্খল পরিবেশ।
এই প্রত্যাবাসন শুধু একটি রাজনৈতিক সমাধান নয়, এটি আমাদের পরিবেশ, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি আশার আলো।
লেখক:আব্দুল মান্নান
উন্নয়ন ও সমাজ কর্মী