শাকুর মাহমুদ চৌধুরী, উখিয়া।। কক্সবাজারের উখিয়া সদর স্টেশনে প্রকাশ্যে এক নারীকে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) উখিয়া সদর স্টেশনের নুর ইলেকট্রনিক্সে ঐ নারীর ওপর আক্রমণ চালানো হয়, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
ঘটনার পরপরই উখিয়া থানা পুলিশ তৎপর হয়ে দুই অভিযুক্তকে আটক করে। ঘটনার একদিন পর, শনিবার রাতে, ভিকটিম ঐ নারী উখিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আবুল কাশেম (৫৭), রাজাপালং ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মৃত হায়দার আলীর পুত্র। ইব্রাহিম (১৫), ৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং আবুল হাশেমের পুত্র।এছাড়া অজ্ঞাত আরো এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এজাহারের তথ্যমতে, ভিকটিম নারী টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা। তিনি জালিয়াপালংয়ে আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা তাকে চুরির অপবাদ দিয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানি করেন এবং মারধর করেন। এসময় তারা ভিডিও ধারণ করে, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসাইন বিষয়টির তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, প্রকাশ্যে এধরণের ঘটনা আইন বহির্ভূত অপরাধ এবং আমরা তা প্রশমিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে, এবং শীঘ্রই তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হবে।
এই ঘটনায় উখিয়া থানার পুলিশ কর্তৃপক্ষের দৃঢ় প্রতিক্রিয়ার পর, এলাকাবাসী ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরাও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনাটি সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে নারীর প্রতি সহিংসতা, অপমান ও শ্লীলতাহানির মতো অপরাধগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ এখন মনে করছে, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা উচিত যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কমে যায়।
এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।