ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫

দৈনিক উখিয়া

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হেড মাঝি নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার-৪

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী, উখিয়া থেকে।।
কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে আবারও একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গত মঙ্গলবার রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ২০ এক্সটেনশনে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করেছে হেড মাঝি মোহাম্মদ নুর (৩০)-কে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা জড়িত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জানা গেছে, মোহাম্মদ নুর (৩০) ছিলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ২০ এক্সটেনশনের হেড মাঝি। মঙ্গলবার রাতের আঁধারে তিনি তার বাড়ি ফিরে যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন। সন্ত্রাসীরা নুরকে কুপিয়ে হত্যা করে দ্রুত পালিয়ে যায়। তার হত্যার পরে, তার স্ত্রী সামিরা বেগম (২১) উখিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যাতে ১৩ জনকে আসামী করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ২০ এক্সটেনশনের এম ৩২ ব্লকের ৩/৪ এলাকার নুর হোসেনের পুত্র মোঃ মোজাম্মল (৩২), ইউসুফের পুত্র কামাল হোসেন, জাফরের পুত্র মোহাম্মদ সিদ্দিক (৪০) এবং রশিদ আহমেদের পুত্র জুবায়ের (৩০)। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আরো আসামীর সন্ধানে অভিযান চলছে।

রোহিঙ্গা শিবিরে হত্যা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং আরসা সদস্যদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, এমন অভিযোগ উঠছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। তাদের দাবি, শিবিরে এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। স্থানীয় বিশিষ্টজনরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর ও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার রাতের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর, নিহত হেড মাঝি মোহাম্মদ নুরের জানাজা বুধবার (৫ মার্চ) বিকাল ৫টায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ২০ এক্সটেনশনের জামে মসজিদের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পরে তাকে কবরস্থানে দাফন করা হয়।

১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ সিরাজ আমীন জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হতাশাজনক এবং তাদের পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য আসামীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা একটি বড় সংকেত, যা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তার চরম বিপদকে তুলে ধরছে। প্রশাসনের প্রতি জনগণের দাবি, ক্যাম্পে দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা জোরদার করা হোক, যেন এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরগুলিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করতে আরও সক্রিয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজন, যাতে রোহিঙ্গা শিবিরে শান্তি ফিরে আসে এবং স্থানীয় জনগণ নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারে।

এ ধরনের ঘটনায় গোটা জাতির উদ্বেগ বেড়ে যাচ্ছে এবং সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে হবে।