ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫

দৈনিক উখিয়া

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাতের আঁধারে হেড মাঝি নুরকে গলাকেটে হত্যা

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী, উখিয়া থেকেঃ

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শিবিরে মোহাম্মদ নুর (৩০) নামে এক হেড মাঝিকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে মঙ্গলবার (৪ মার্চ) রাতে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ২০ এক্সটেনশন এলাকায়। নিহত মোহাম্মদ নুর উখিয়ার ২০ নম্বর ক্যাম্পের এম ৩২ ব্লকের বাসিন্দা আবু ছৈয়দের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ নুর উখিয়ার ২০ এক্সটেনশনে একটি দোকান থেকে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা নুরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনাটি ঘটার পর স্থানীয় রোহিঙ্গারা পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ, এপিবিএন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২০ এক্সটেনশনে এক হেড মাঝিকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। স্থানীয় এপিবিএন পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি পূর্ববিরোধ বা ব্যক্তিগত শত্রুতার ফল হতে পারে। স্থানীয় রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। হত্যাকারীরা এখনও শনাক্ত হয়নি, তবে পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আবারও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তার দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করছে। দীর্ঘদিন ধরে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই এবং দুর্বৃত্তদের আক্রমণ নিত্যনতুন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।

রোহিঙ্গা শিবিরে সহিংসতার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন কারণে সংঘর্ষ, হত্যা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গুলি বিনিময়, আক্রমণ, এবং অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা বা শত্রুতার কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটছে। বিশেষত, কিছু সময় ধরে শিবিরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কিছু গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ এবং হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত বছরও এই ধরনের একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটে, যার ফলে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উখিয়া থানা পুলিশ এবং এপিবিএনসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এত বড় পরিসরে রোহিঙ্গাদের বসবাসের কারণে সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর তদন্তের কাজ চলছে এবং দ্রুতই হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে।

এ ঘটনার পর রোহিঙ্গা শিবিরে বসবাসরত মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, এবং অনেকেই নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত এবং শিবিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।