বিশেষ প্রতিবেদক।। দৈনিক ‘প্রলয়’ পত্রিকার মুক্তাগাছা প্রতিনিধি মীর সবুর আহমেদের মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা সম্প্রতি জনমনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় মুক্তাগাছা উপজেলার নন্দিবাড়ী এলাকায় উপজেলা বিএনপির আয়োজিত ইফতার মাহফিলের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক মীর সবুর আহমেদের মোটরসাইকেলটি চুরি হয়ে যায়। ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে সাংবাদিককে দাওয়াত দেয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। যখন সাংবাদিক অনুষ্ঠান কভার করতে ছিলেন, তখন অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা তার ময়মনসিংহ-ল-১১-৫০৬১ নম্বরের ১৫০ সিসি টিভিএস এপাসি মোটরসাইকেলটি চুরি করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই সাংবাদিক মীর সবুর আশেপাশের এলাকায় খোঁজখবর নিতে থাকেন, তবে মোটরসাইকেলটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে তিনি মুক্তাগাছা থানার ওসি বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর ওসি এসআই রতন চন্দ্র নাগকে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেন।
পুলিশ জানায়, সিআরপিসি ১৫৪ এবং পিআরবি ২৪৪ (ক) ধারা অনুযায়ী, এই অভিযোগটি একটি আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে মামলা রুজু করা হবে। তবে সূত্র মতে, অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ কিছুটা ধীর গতিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক মীর সবুর আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে মুক্তাগাছা এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রতিবেদন তিনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কিছু নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ করেন। বিশেষত, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি এবং কালোবাজারির বিরুদ্ধে তার প্রকাশিত রিপোর্টগুলো প্রশাসন ও স্থানীয়দের নজরে আসে। এই প্রতিবেদনের পর স্থানীয় কিছু ব্যক্তির ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি সাংবাদিকতার কাজকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে তার মোটরসাইকেলটি চুরি করতে পারে বলে অনেকের ধারণা।
এছাড়াও, স্থানীয় সাংবাদিকরা দাবি করেছেন, চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটির উদ্ধারের পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তারা সাংবাদিক মীর সবুর আহমেদের ওপর হামলা বা তার কাজে বাধা প্রদানকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর আক্রমণ হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আমরা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে চেষ্টা করছি।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করছেন, পুলিশ তদন্তে সঠিক ফলাফল নিয়ে আসবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে।
মুক্তাগাছায় এ ধরনের ঘটনা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। সাংবাদিকেরা দাবি করছেন, যদি আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে এলাকার মানুষের মধ্যে আরো বেশি আতঙ্ক এবং সাংবাদিকদের কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে।
এ পর্যন্ত যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে, তা থেকে সঠিক তদন্ত ও দ্রুত সমাধান আশা করছে স্থানীয় সমাজের সচেতন মহল।