শাকুর মাহমুদ চৌধুরী।। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের নিদানিয়াতে পরিত্যক্ত বৈশালী হ্যাচারীতে মোহাম্মদ আরাফাত নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত অবস্থায় আরাফাতকে হ্যাচারীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়, এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বৈশালী হ্যাচারীটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে, যা কক্সবাজার রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ডের মালিকের দ্বিতীয় একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। এটি একটি চিংড়িপোনা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি বন্ধ হয়ে গেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে হ্যাচারীর ম্যানেজার জানান, আমাদের হ্যাচারীটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকার কারণে এখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। সম্প্রতি, বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার চুরি করার উদ্দেশ্যে সেখানে কিছু মানুষ আসলে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে পড়ে আহত হয়। তার সঙ্গীরা মনে করে সে মারা গেছে এবং দ্রুত পালিয়ে যায়, কিন্তু তাকে মৃত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। ম্যানেজারের দাবি, হ্যাচারীতে দুটি ট্রান্সফরমার ছিল, তবে কিছুদিন আগে একটি চুরি হয়ে গেছে এবং অন্যটি চুরি করার জন্য ওই ব্যক্তিরা এখানে এসেছিল।
নিহত আরাফাতের মা এবং ভাই দাবি করেছেন, আমাদের ছেলে বা ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহত অবস্থায় রাতের সময় তাকে মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং জীবিত অবস্থায় কলা পাতা মোড়ানো অবস্থায় সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে।
আরাফাতের ভাই আরও দাবি করেছেন, আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলা হয়েছে এবং তার গায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমাদের কেন খবর দেওয়া হয়নি, প্রশাসনকে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আরাফাতের মৃত্যুর পূর্বে সে তাদের সঙ্গে কিছু সাক্ষাৎকারে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছে। তার দাবি অনুযায়ী, তিনজন ব্যক্তি তাকে হত্যা করেছে এবং তাকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়েছে। তার মধ্যে (১) মোহাম্মদ আয়াছ পিতা আব্দুস শাকুর, (২) নুর হোসেন পিতা মনজুর, (৩) মোহাম্মদ ইয়াছিন পিতা জবর মুল্লুক—এই তিনজনের নাম উল্লেখ করেছে।
এ বিষয়ে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। আমরা হত্যার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য সমস্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী এবং নিহতের পরিবার প্রশাসনের কাছ থেকে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুত খুনিদের শনাক্ত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এ হত্যাকাণ্ডটি উখিয়া উপজেলায় নতুন একটি আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সবাই এখন অপেক্ষা করছে, প্রশাসন এই হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করে হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করবে কিনা।