শাকুর মাহমুদ চৌধুরী, উখিয়া থেকে।।
কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলায় অনুষ্ঠিত নিলামে কুতুপালং বাজারের দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকায়। মঙ্গলবার (৪ মার্চ ২০২৫) উখিয়া উপজেলা পরিষদে এ বাজারের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সরকারি মূল্য ছিলো ২ কোটি ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫১০ টাকা। তবে, বাজারটির সর্বোচ্চ দর দাতারা বিস্ময়করভাবে ৩ কোটি ৫৬ হাজার ৩৭৩ টাকা প্রস্তাব করেছেন। এর সঙ্গে যোগ করা হলে ভ্যাট এবং ট্যাক্সসহ এই দর প্রায় ৪ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
কুতুপালং বাজারের এই চমকপ্রদ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান একেএম শাহ কামাল চৌধুরী, যিনি বর্তমানে উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব সাদমান জামী চৌধুরীর বাবা। তিনি রাজাপালং ইউনিয়নে অবস্থিত কুতুপালং বাজারের সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর এবারের জয় উখিয়া উপজেলার ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে নতুন এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়া, উখিয়া উপজেলার অন্যান্য বাজারেও নিলামে বিপুল পরিমাণ দর উঠেছে। হলদিয়াপালংয়ের মরিচ্যা বাজারের সর্বোচ্চ দর ২ কোটি ৫১ লাখ ৪৭ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। এই বাজারের দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর চৌধুরী। পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী বাজারের জন্য ২ কোটি ২১ লাখ টাকার সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন ফোরকান চৌধুরী। রত্নাপালং ইউপির কোটবাজারের সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, যার দর দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
এদিকে, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হোসাইন চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতাদের ইজারা মূল্য পরিশোধ করতে হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ইজারা শর্তাবলী ঠিকভাবে মানা হচ্ছে কিনা, তা মনিটরিং করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রমাণ করবে যে, সরকারি সুরক্ষা ও নিয়ম-নীতি মানা হচ্ছে, যা বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে।
উখিয়া উপজেলায় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বাজারের নিলামগুলোতে কোটি কোটি টাকার দর উঠেছে, যা কেবল সরকারের আয় বাড়াতে সহায়তা করবে না, বরং উখিয়া এলাকার ব্যবসায়িক পরিবেশে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। অনেকেই ধারণা করছেন যে, এই নিলামগুলো থেকে পাওয়া অর্থ স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়ন এবং বেসরকারি উদ্যোগের জন্য বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে, নতুন ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তারা উখিয়া অঞ্চলে আসার সুযোগ পাবেন, যা ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সহায়ক হবে।
এছাড়াও, একই সময়ে ভালুকিয়া, রুমখাপালং, পালংখালী এবং সোনারপাড়া বাজারের নিলামও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে যথেষ্ট পরিমাণ দর উঠেছে। এসব বাজারের নিলামে অংশগ্রহণকারীরা সকলেই নির্দিষ্ট শর্তাবলী মেনে দর দানে অংশ নিয়েছেন।
এটি সেক্টরভিত্তিক ব্যবসায়িক উন্নয়ন, সরকারী রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি উখিয়া উপজেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে। জনসাধারণের মধ্যে উখিয়া উপজেলার ইজারা নীতির প্রতি আগ্রহ এবং বিশ্বাসের সৃষ্টি হওয়ায়, আগামী দিনে এখানে ব্যবসায়িক সুযোগ এবং উদ্যোক্তা পরিবেশ আরও শক্তিশালী হতে পারে।
এভাবেই উখিয়া উপজেলার এই নিলাম প্রক্রিয়া সরকারের জন্য নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত উন্মোচন করে চলেছে, যা এ অঞ্চলের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায় যোগ করছে।